রায় অস্বাভাবিক, স্তম্ভিত বিএনপি

রায় অস্বাভাবিক, স্তম্ভিত বিএনপি

0
SHARE

সময় সংবাদ রিপোর্ট:জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় হাইকোর্টের রায়কে ‘অস্বাভাবিক’ হিসেবে উল্লেখ করেছে বিএনপি। এ রায়ে পুরোপুরিভাবে স্তম্ভিত বলে জানিয়েছে দলটি। আজ মঙ্গলবার সকালে এ মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাজা পাঁচ থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করেন হাইকোর্ট।দুপুরে নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই প্রতিক্রিয়া জানান। বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘হাইকোর্টের আদেশ আমাদেরকে পুরোপুরিভাবে ‘স্তম্ভিত’ করেছে, ‘বিস্মিত’ করেছে। এই ‘অস্বাভাবিক’ রায়, যেটা পরিস্কারভাবে সরকারের ইচ্ছারই প্রতিফলন বলে আমরা মনে করি। এই রায় প্রায় নজিরবিহীন। আমরা মনে করি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এই রায় প্রদান করা হয়েছে।’ এই রায়কে সম্পূর্ণ প্রত্যাখান করে মির্জা ফখরুল বরেন, ‘জনগণই বিচার করবে ভবিষ্যতে। যে বেগম খালেদা জিয়ার রায় কী হওয়া উচিৎ ছিল।’ এছাড়া গতকাল জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় নিম্ন আদালতে ৭ বছরের রায় ঘোষণা দেওয়ার প্রতিবাদে, ঘোষিত ৩১ অক্টোবর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানবন্ধন এবং ১ নভেম্বর অনশনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলেও জানান বিএনপির এ নেতা। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, ‘এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে সরকার আদালতকে ব্যবহার করে দেশে বিরোধীদলকে নির্মূল করছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পুরোপুরিভাবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। দুর্ভাগ্যের কথা যে রাষ্ট্রটি জন্মলাভ করেছিল গণতান্ত্রিক চেতনার মধ্য দিয়ে, সেই রাষ্ট্রে আজকে সমস্ত গণতান্ত্রিক যে প্রতিষ্ঠানগুলো আছে, সে সবকে ধবংস করে দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘যে মামলায় আজকে খালেদা জিয়াকে এই সাজা দেওয়া হলো, সেই মামলায় তার ইনভোলবমেন্টটা কখনই প্রমাণিত হয়েছে বলে জানা নেই। নিম্ন আদালতেই এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে আমাদের আইনজীবীরা বার বার বলেছে। সেই মামলায় আজকে উচ্চ আদালতে সাজা বাড়ানো হলো। এতে করে একটা জিনিস পরিষ্কার হয়ে যায়, সরকার কোনো মতেই একটি অংশগ্রহনমূলক নির্বাচন করতে আগ্রহী না। তারা বিএনপিকে নির্বাচনে বাইরে রাখতে চায়, খালেদা জিয়া নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায়, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নির্বাচনের বাইরে রাখতে চায় এবং রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চায়।’ মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়েছে এটা শুধু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, ব্যক্তিগত প্রতিহিংসাও এখানে কাজ করছে। যে কারণে চরমভাবে অসুস্থ খালেদা জিয়াকে এ ধরনের সাজা প্রদান করা হচ্ছে।’ উচ্চ আদালতে খালেদা জিয়ার রায়ের প্রভাব প্রধানমন্ত্রীর ডাকা সংলাপে পড়বে কিনা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এর থেকেই বোঝা যাবে এই সংলাপ কতটুকু আন্তরিক এবং এই সংলাপ কতটুকু ফলোপ্রসূ হবে, সে সম্পর্কে জনমনে যে জিজ্ঞাসা ও প্রশ্ন সেটা অবশ্যই আসবে।’ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজউদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ শাহজাহান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

LEAVE A REPLY