একনেকে রেকর্ড ৩৩ প্রকল্প উঠছে আজ

একনেকে রেকর্ড ৩৩ প্রকল্প উঠছে আজ

0
SHARE

সময় সংবাদ রিপোর্ট:নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে পাইপলাইনে থাকা প্রকল্পগুলোকে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন দিতে চায় সরকার। এজন্য আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বর্তমান সরকারের ১৫০তম একনেক সভা। আজকের সভায় রেকর্ড ৩৩টি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য রাখা হয়েছে। এর বাইরে অবহিতকরণ ও টেবিলে উপস্থাপন হবে আরো কয়েকটি প্রকল্প। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ ১৪৯তম সভা পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৩২১টি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়নে ১৫ লাখ ১০ হাজার ৮৬৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারিভাবে ৯ লাখ ১১ হাজার ৭২১ দশমিক ৯৬ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৫৩ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা এবং প্রকল্প ঋণ হিসেবে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৬২০ কোটি ৬৬ লাখ টাকা সংস্থান হবে।

গত সভায় ২৪ হাজার ৭৪০ কোটি ৬৬ লাখ টাকার ২৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেয় একনেক। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে ১৯ হাজার ৩৬১ কোটি ৯৬ লাখ টাকা, সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩০৬ কোটি ৪ লাখ এবং প্রকল্প সাহায্য ৫ হাজার ৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। একনেকের গত সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, তফসিল ঘোষণার পর আর কোনো সভা অনুষ্ঠিত হবে না। সে হিসেবে আজকের সভাটি বর্তমান সরকারের শেষ একনেক সভা হতে পারে।

নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্ন উঠেছিল গত একনেক সভার পর। তখন সাংবাদিকদের এর প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে এবং জনগণের সেবা করার প্রয়োজনে নির্বাচনের আগের যতগুলো প্রকল্প অনুমোদন দেয়া প্রয়োজন হয়, তা দেয়া হবে। কেননা নির্বাচনের সময় বেসরকারি খাত বিনিয়োগ করা থেকে একটু পিছিয়ে থাকে। সেটি পূরণ করার জন্যই সরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজন।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্প অনুমোদনে যেভাবে তত্পরতা দেখা যায়, বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তেমনটা চোখে পড়ে না। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ের সমস্যা থেকেই যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দক্ষ, অভিজ্ঞ ও প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব, পূর্ণকালীন পরিচালক না থাকার কারণে কাজে ধীরগতি, ভূমি অধিগ্রহণে দীর্ঘসূত্রতা, উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ না দেয়া, অতিরিক্ত ভূমি অধিগ্রহণের প্রবণতাসহ বিভিন্ন কারণে জটিলতা বাড়ে। বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কর্তৃক প্রকল্পের নিবিড় মনিটরিং ও তদারকিতে ঘাটতি দেখা যায়। আবার যেসব জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নয়ন প্রকল্প নেয়া হয়, তাদের ব্যাপারে কোনো তথ্য সংগ্রহ করা হয় না।

প্রকল্পের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে বাস্তবায়নে তদারকি জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, দেশের উন্নয়নে ছোট-বড় ও মেগা সব ধরনের প্রকল্প গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আছে। তবে প্রকল্প গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের মধ্যে বিস্তর ফারাক রয়ে গেছে। অনেকটা ঘোড়া তার গাড়িকে ফেলে চলে যাওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। এখানে ঘোড়া হলো পরিকল্পনা আর গাড়ি হলো বাস্তবায়ন। এ ধরনের পরিস্থিতি মোটেও কাম্য নয়। পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন আরো সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া দরকার।

এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, দারিদ্র্য বিমোচন ও আয় বৈষম্য কমিয়ে আনার পাশাপাশি আর্থসামাজিক উন্নয়নই প্রকল্প গ্রহণ অন্যতম লক্ষ্য। দেশের মানুষের চোখে যে স্বপ্ন রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বাংলাদেশকে ২০২১ সালের আগেই মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ এবং ২০৪১ সালে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য সামনে রেখে উন্নয়ন নীতি-কৌশল ও লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি একটি টেকসই গতিশীলতার মধ্যে এসেছে। সেই গতিশীলতা ধরে রাখতে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণে সবসময়ই পিছিয়ে পড়া এলাকা, অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রান্তিক মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের পাশাপাশি সব জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হয়।

LEAVE A REPLY