বিএনপির আন্দোলন ও নির্বাচন মোকাবিলায় প্রস্তুত আ.লীগ

বিএনপির আন্দোলন ও নির্বাচন মোকাবিলায় প্রস্তুত আ.লীগ

0
SHARE

 সময় সংবাদ রিপোর্ট:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে যে কৌশলই নিক না কেন বিএনপি, তা মোকাবিলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে আওয়ামী লীগ। বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে আওয়ামী লীগের কৌশল হবে এক রকম, আর যদি নির্বাচনে না আসে বা বানচালের দাবিতে আন্দোলন করে তা হলে কৌশল বদল হবে। তবে ক্ষমতাসীনরা চায় বিএনপি নির্বাচনে আসুক। দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী একাদশ জাতীয় সংসদের ভোটগ্রহণ হবে ২৩ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৯ নভেম্বর। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ধারণা করছেন, বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। ইতোমধ্যে বিএনপির নির্বাচনী প্রস্তুতিও লক্ষ করছেন সরকারি দলের নেতারা। তবে এত সহজেই বিএনপির সিদ্ধান্তকে আমলে নিতে চান না ক্ষমতাসীনরা। তাদের মতে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন বোঝা যাবে, বিএনপি নির্বাচনে আসছে কিনা। এ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের ওপর আওয়ামী লীগের আসনবণ্টনসহ দলীয় অনেক কৌশল নির্ভর করবে। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, বিএনপি নির্বাচনে আসতে চাইলে খুব বেশি প্রস্তুতি নিতে হবে বলে আমি মনে করি না। কারণ দলটি এর আগেও অনেক নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। বিএনপি যদি মনে করে তারা নির্বাচনে অংশ না নিলে একাদশ সংসদ নির্বাচন হবে না, এমন অবস্থা বাংলাদেশে নেই। ২০১৪ সালেই তারা নির্বাচন ঠেকাতে পারেনি, এবারও পারবে না। দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, বিএনপি যে কৌশলই নিক না কেন, তার পাল্টা প্রস্তুতি আমাদের নেওয়া আছে। তারা যদি নির্বাচনে অংশ নেয়, তা হলে তাদের নির্বাচনী মাঠে মোকাবিলা করা হবে; আর আন্দোলন করলে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে। দলটির মনোনয়ন বোর্ডের একাধিক সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, জাতীয় পার্টি ছাড়া আওয়ামী লীগের মিত্র হিসেবে যারা একাদশ নির্বাচনে অংশ নেবে, তাদের সঙ্গে এক ধরনের আসন সমঝোতা হয়ে গেছে। তবে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন সমঝোতার বিষয়টি এখনো ঝুলে আছে বিএনপির সিদ্ধান্তহীনতার কারণে। জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের এ বিষয়ে বলেন, বিএনপি যদি নির্বাচনে আসে তা হলে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জোট মহাজোট থেকে নির্বাচন করবে। বিএনপি অংশ না নিলে ৩০০ আসনে দলীয় প্রার্থী দেবে জাতীয় পার্টি। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় পার্টি ছাড়া আওয়ামী লীগের জোট শরিক এবং নির্বাচনী মিত্রদের জন্য ২৩টি আসন ছাড়তে চায় আওয়ামী লীগ। এর মধ্যে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের দুই অংশের জন্য ৫টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির জন্য ২ অথবা ৩টি, ইসলামিক ঐক্যজোটের জন্য ৩টি, জাতীয় পার্টির (জেপি) জন্য ১টি, তরীকত ফেডারেশনের জন্য ২টি, জাকের পার্টির জন্য ১টি, বিকল্পধারা নেতৃত্বাধীন জোটের জন্য ৫টি এবং বাম গণতান্ত্রিক মোর্চা নির্বাচনে এলে ২টি আসন ছাড়তে চায় আওয়ামী লীগ। বিএনপির মধ্যে দুটি পক্ষ দুই ভাবনা ভাবছে জানিয়ে আওয়ামী লীগের কয়েক জন শীর্ষ নেতা বলেন, বিএনপির মধ্যে দুটি পক্ষ এখন সক্রিয়। একটি পক্ষ চায় নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিয়মতান্ত্রিক রাজনীতিতে নিয়মিত হতে; আরেকটি পক্ষ চায় আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারের পতন ঘটাতে। তাই নির্বাচনী ডামাডোলের মধ্যে অন্য দলগুলোর মতো বিএনপিও নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দু-এক দিনের মধ্যে দলীয় মনোনয়ন ফরম ছাড়া শুরু করলেও করতে পারে। আওয়ামী লীগের ওই নেতারা অবশ্য বলছেন, মনোনয়ন ফরম ছাড়া মানেই বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে ব্যাপারটি তা নয়। এ জন্য আমাদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কারণ এর আগে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের অনেক নির্বাচনে ভোটগ্রহণের আগের দিন বিএনপি ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে যেন বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতার ফাঁদ তৈরি না হয়, সেজন্য কৌশলী হবে আওয়ামী লীগ। আর বিএনপি নির্বাচন বয়কট করে শেষ মুহূর্তে আন্দোলনের ডাক দিলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে দলটির নেতাকর্মীদের ২০১৪ সালের দশম সংসদ নির্বাচনের আগের মতো মোকাবিলা করবে; নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো সুযোগ দেবে না। অতীতের চেয়ে আরও বেশি কঠোরভাবে বিএনপিকে মোকাবিলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে ক্ষমতাসীনরা। আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, এখন সারাদেশে নির্বাচনী আমেজ শুরু হয়ে গেছে। দেশে এখন আর কোনো আন্দোলন হবে না। জাতির সামনে একটাই বিষয়, তা হলো-একাদশ সংসদ নির্বাচন। বিএনপি যদি আবার ২০১৪ সালের মতো এবারও নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করে তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেবে জনগণ।

LEAVE A REPLY