লাশ গুমে খিলগাঁওকে বেছে নিচ্ছে খুনিরা

লাশ গুমে খিলগাঁওকে বেছে নিচ্ছে খুনিরা

0
SHARE

সময় সংবাদ রিপোর্ট:রাজধানীর খিলগাঁওয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বে প্রায়ই ঘটছে খুনোখুনির ঘটনা। শুধু তাই নয়, অন্যত্র খুনের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি এড়িয়ে এ এলাকায় লাশ ফেলে যাওয়া অপেক্ষাকৃত সহজ বলে মনে করছে খুনিরা। গত ১০ মাসে খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকা থেকে ৮টি অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করেছে স্থানীয় থানা পুলিশ। সর্বশেষ গত শুক্রবারও খিলগাঁওয়ের নাগদারপার ব্রিজের অদূরে রাস্তার পাশের একটি ঝোপের মধ্যে ব্যবসায়ী সুমন খানের গামছা দিয়ে হাত-চোখ বাঁধা গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ বাজারের এ কাপড় ব্যবসায়ীকে অন্য কোথাও হত্যার পর লাশ গুমের জন্য ওই ঝোপে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা। আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিভৃতে লাশ ফেলে যাওয়ার জন্য খুনিরা এখন বেছে নিয়েছে খিলগাঁও। এখানকার রাস্তা, ডোবা-নালা, ঝোপ-ঝাড়-ম্যানহোলেও মিলছে লাশ। এসব লাশের মধ্যে হয়তো কোনোটির পরিচয় মিলছে, কোনোটির মিলছে না।

খিলগাঁও থানা পুলিশের ভাষ্য, দুর্বৃত্তরা অন্য কোথাও হত্যার পর ভিকটিমের লাশ ফেলে যায় এ থানা এলাকায়। খিলগাঁওয়ের উত্তরে বাড্ডা; দক্ষিণে মতিঝিল, সবুজবাগ ও ডেমরা; পূর্বে রূপগঞ্জ উপজেলা এবং পশ্চিমে রামপুরা। ১২টি গ্রাম ঘিরে আছে এ থানা এলাকা। এগুলো হলো-ত্রিমোহনী, নাসিরাবাদ, দাশেরকান্দি, গজারিয়া, কায়েতপাড়া, বাবুর জায়গা, বালুরপার, উত্তর দুর্গাপুর, নাগদারপাড়া, ইদারকান্দি, শেখের জায়গা ও ভাইগদিয়া। যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা থাকলেও ভৌগোলিক কারণে খিলগাঁওয়ের কিছু এলাকায় এখনো জনবসতি গড়ে ওঠেনি। জলাধারবেষ্টিত এসব এলাকা দিনের বেলায়ও অনেকটাই সুনসান থাকে। কয়েকটি এলাকা এখনো সিসি ক্যামেরার পুরোপুরি আওতায় আনা সম্ভব হয়নি। এ সব বিষয় মাথায় রেখে অন্য কোথাও খুনের পর লাশ ফেলে যাওয়া নিরাপদ ভেবে খুনিরা খিলগাঁওয়ের বিভিন্ন স্থানকে বেছে নিতে পারে বলে মনে করছে পুলিশ।

জানা গেছে, গত ৪ সেপ্টেম্বর খিলগাঁওয়ে দক্ষিণ গোড়ানের নবীনবাগ এলাকার একটি ম্যানহোল থেকে উদ্ধার করা হয় পারভীন আক্তার নামে এক নারীর গলিত মরদেহ। ১৬ জুন ভুঁইয়াপাড়ার একটি খালি প্লটে মেলে ৮ বছরের নিখোঁজ শিশু সাফওয়ান আল নিনাদের লাশ। ১৪ জুন খিলগাঁওয়ের বাগিচা-সংলগ্ন রেললাইনে মেলে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীনের ছেলে ব্যাংকার সুমন জাহিদের দ্বিখণ্ডিত লাশ। ১৪ মে মেরাদিয়ার ত্রিমোহনী খালের বাবুরজায়গা এলাকায় পাওয়া যায় আশা নামে একটি এনজিওর জুনিয়র কর্মকর্তা বিল্লাল হোসেনের লাশ। তার হাত-পা-কোমর রশি দিয়ে বাঁধা ছিল আর মাথা ছিল পলিথিনে মোড়া। ছুরিকাঘাতে হত্যার পর ৭ মে রাতে দক্ষিণ বনশ্রীর ই-ব্লকের একটি সড়কে জাকির হোসেন নামে এক যুবককে ফেলে যায় দুর্বৃত্তরা। ৪ জানুয়ারি মেরাদিয়ার বাগানবাড়ি হোটেলের পেছনের মাঠে বালুর নিচ থেকে এক নারীর গলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে জানিয়ে পুলিশ বলে, বালুর মাঠের যে স্থান থেকে নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়, ওই এলাকা দিয়ে সাধারণত কেউ আসা-যাওয়া করেন না। লাশ উদ্ধারকালে দেখা গেছে, কয়েকটি কুকুর লাশটি নিয়ে টানা-হেঁচড়া করছিল। এ দিকে একের পর এক অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের খবরে শঙ্কিত খিলগাঁওবাসী।

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, খিলগাঁও থানার বেশ কয়েকটি এলাকায় যান চলাচল ও মানুষের কোলাহল থাকলেও সন্ধ্যা নামতেই সুনসান নিরব-নির্জন হয়ে যায়। তখন এসব সড়ক দিয়ে মাদক বহন থেকে শুরু করে সব ধরনের অপকর্মই চলে। অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের খবরে প্রথম প্রথম পুলিশের ব্যাপক কর্মতৎপরতা দৃশ্যমান হলেও পরবর্তী সময়ে কমে আসে আগ্রহ; তদন্তও চলে কচ্ছপ গতিতে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আসামিরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে। ভীতিকর এ পরিস্থিতির উত্তরণে পুরো থানা এলাকায় জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি জানান তারা। ঢাকা মহানগর পুলিশের খিলগাঁও জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নাদিয়া জুঁই বলেন, খিলগাঁওয়ের আশপাশে বেশ ক’টি হাইওয়ে রয়েছে। ভিকটিমকে অন্য কোথাও হত্যার পর অপরাধীরা সে সব হাইওয়ে ব্যবহার করে সহজেই নির্জন স্থানে লাশ ফেলে দিতে পারে। ওই সব সড়কগুলোতে টহল জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ী সুমন খান হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা না গেলেও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

LEAVE A REPLY