বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা

বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টা

0
SHARE

ডেইলি নিউজ রির্পোট, চট্টগ্রাম ॥ বাংলাদেশ বিমানের দুবাইগামী একটি উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা যৌথবাহিনীর অভিযানে ব্যর্থ হয়েছে। রোববার বিকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়ার পরপরই এ ঘটনা ঘটে। এরপর বিমানটিকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। সেখানে উদ্ধার অভিযানের সময় উড়োজাহাজে থাকা অস্ত্রধারী ছিনতাইকারীকে আহতাবস্থায় আটক করা হয়। পরে তার মৃত্যু ঘটে। নিহত ছিনতাইকারীর নাম মাহাদী। তার বুকে বোমা বাঁধা ছিল। তবে বিমানটির যাত্রী-ক্রুসহ সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে।

রোববার রাতে শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিমানবাহিনীর চট্টগ্রাম ঘাঁটির অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন- যাত্রীরা সবাই সুস্থ আছেন। একজন যাত্রীরও কোনো ক্ষতি হয়নি। ওই অস্ত্রধারীকে বিশেষ অভিযানে বিমানের ভেতর থেকে আহতাবস্থায় বের করে আনা হয়। তার পরিচয় এখনও জানা যায়নি। অস্ত্রটি কি ধরনের সেটাও এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রাতে চট্টগ্রামের এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল এসএম মতিউর রহমান বলেছেন, হলি আর্টিজানে নেতৃত্ব দেয়া সেনা কর্মকর্তার নেতৃত্বে এখানে মাত্র ৮ মিনিটের অভিযানে পরাভূত করা হয় অস্ত্রধারীকে।

বিমানের একজন পরিচালক জানিয়েছেন, বিজি-১৪৭নং ফ্লাইটটি বিকাল সাড়ে ৪টায় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দুবাই যাওয়ার সিডিউল ছিল। তাতে যাত্রী ছিলেন বিজনেস ক্লাসে ৯ জন, ইকনোমি ক্লাসে ১৩৪ জন। ফ্লাইটের ককপিটে ছিলেন ক্যাপ্টেন শফিউল ও ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির। কেবিন ক্রু ছিলেন- নিম্মি, হুসনে আরা, সাগর, সাকুর ও বিথী। ওই ফ্লাইটটি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টেকঅফ করার পরপরই ককপিটে বসে ক্যাপ্টেন শফিউল ও ফার্স্ট অফিসার মুনতাসির কোনোভাবে আঁচ করতে পারেন ভেতরে যাত্রীবেশে সন্ত্রাসী ঘাপটি মেরে আছে। এরপরই তিনি শাহ আমানতের টাওয়ারের কাছে জরুরি অবতরণের মেসেজ পাঠান। অত্যন্ত সুকৌশলে তিনি ফ্লাইটটি ল্যান্ড করার পর দ্রুত যাত্রীদের নিয়ে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।

একটি সূত্র জানায়, ওই ফ্লাইটটি টেকঅফের পরপরই মাহাদী নামের এক যাত্রী ককপিটে গিয়ে পাইলটের সঙ্গে কথা বলতে চান। তাকে সে সুযোগ দেয়া হলে সে ক্যাপ্টেনকে জানান- জরুরিভাবে এখনই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলতে হবে। এতে ক্যাপ্টেন জরুরি অবতরণের মেসেজ পাঠান টাওয়ারে। বিকাল সোয়া ৫টায় ফ্লাইটটি শাহ আমানতে অবতরণের সঙ্গে সঙ্গেই কেবিন ক্রুরা পেছনের জরুরি নির্গমনের দরজা দিয়ে একে একে সব যাত্রীকে বের করে আনেন। এদিকে ককপিটে আলোচনারছলে ক্যাপ্টেন ওই অস্ত্রধারীকে রেখেই বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। ভেতরে তখন ছিলেন কেবিন ক্রু সাগর।

এদিকে খবর পেয়ে চট্টগ্রাম বিমান বাহিনীর ঘাঁটির অধিনায়ক এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমানের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী, র‌্যাবসহ অন্যান্য নিরাপত্তা রক্ষীদের যৌথ অভিযানের প্রস্তুতি নেয়া হয়। তারা গ্রাউন্ড থেকে ফোনে অস্ত্রধারীর সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। তাকে ফোনে কথা বলায় ব্যস্ত রেখে হঠাৎ একপর্যায়ে ফ্লাইটের ভেতরে পৌঁছে যায় নিরাপত্তারক্ষীরা। তারা ওই অস্ত্রধারীকে জাপটে ধরে বের করে আনেন।

জানা গেছে, ফ্লাইটটি যখন মাঝ আকাশে, তখন এক ব্যক্তি পাইলটকে অস্ত্র ঠেকিয়ে উড়োজাহাজটি জিম্মি করেন।

পুলিশের বিশেষ শাখার ডিআইজি আকমল হোসেন বলেন, ‘ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার পর একজন যাত্রী ককপিটে ঢুকে পাইলটকে পিস্তল ধরে বলেন, আমাকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলিয়ে দিতে হবে। পাইলট ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে চট্টগ্রামে অবতরণ করান। যতটুকু জানা গেছে সাগর নামে একজন ক্রু ছাড়া আর কেউ নেই বিমানে।

ওই উড়োজাহাজে দেড়শ’ যাত্রীর সঙ্গে থাকা সংসদ সদস্য মাঈনউদ্দিন খান বাদল গণমাধ্যমকে বলেন, পাইলট আমার সঙ্গে নেমে এসেছিলেন। তিনি বলেছেন, তাকে পারসু করার চেষ্টা করেছে হাইজ্যাকার, বলছে সে শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চায়।

এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জানিয়েছেন, যতটুকু জানা গেছে, একজন সন্দেহভাজন পাইলটের মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে ছিল। তবে সব যাত্রী নেমে গেছে। পাইলটও নেমে গেছে। এটা নিশ্চিত যে একজন সন্দেহভাজন বিমানটির ভেতরে এখনও অবস্থান করছে। প্রকৃত ঘটনা কী, তা জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মিরাজ জানান, যাত্রীদের নিরাপদে বের করে আনা হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু বলতে রাজি হননি তিনি।

ফায়ার সার্ভিস সদর দফতর কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার এরশাদ হোসেন বলেন, জরুরি অবতরণের সংবাদ পেয়ে ৬টা ২৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি গাড়ি উড়োজাহাজের চারপাশে অবস্থান নেয়। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) সোহেল রানা বলেন, উড়োজাহাজে জিম্মিদশার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে শুনেছি। যিনি জিম্মি করেছেন তিনি উড়োজাহাজের ভেতরেই রয়েছেন। পুলিশ উড়োজাহাজটি ঘিরে রেখেছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, সব যাত্রী নিরাপদে অবতরণ করেছেন। বড় ধরনের কিছু ঘটেনি।

জানা গেছে, রোববার বিকালে ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) বিমানবন্দর থেকে বিমানটি উড্ডয়নের পরপরই অস্ত্রধারী এক ব্যক্তি পাইলটের ককপিটে প্রবেশের চেষ্টা করলে কেবিন ক্রুরা তাকে বাধা দেন। এরই মধ্যে একটি গুলির শব্দ শুনতে পান যাত্রীরা। পরে টালমাটাল বিমানটি বিকাল ৫টা ৪০ মিনিটে শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে।

পাইলটের দক্ষতায় বিমানটিতে থাকা সব যাত্রীর প্রাণ বেঁচে গেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এ সময় চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে ছিলেন ওমানগামী ফ্লাইটের যাত্রী কাউছার। তিনি জানান, ‘তিনি ওমান প্রবাসী। আজ তার ফ্লাইট। তাই তিনি প্রয়োজনীয় সব নিয়মাবলি পূরণ করেই বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন। ছিনতাইয়ের কবলে থাকা বিমানটি যখন অবতরণ করে তখন তারা দ্বিতীয়তলায় ছিলেন। এর মাঝে পৌনে ৬টার দিকে এ বিমানটি জরুরিভাবে অবতরণ করে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই বিমানবন্দরের অফিস স্টাফদের বিমানটির কাছে ছুটে যেতে দেখেন।’

কাউছার বলেন, ‘প্রথমে ওই বিমানে ইমারজেন্সি এক্সিট দিয়ে কিছু যাত্রীকে বের হতে দেখি। পরে বিমানের সামনের দিকে মইয়ের মতো কিছু একটা লাগিয়ে কয়েকজন পাইলটের জানালা বরাবর গিয়ে বেশ কিছু সময় কথা বলতে দেখা যায়। পরে উপরের একটি দরজা দিয়ে পাইলট বেরিয়ে আসেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম দিকে যখন হুড়োহুড়ি শুরু হয় তখন আমিসহ অনেকেই নিচতলায় নেমে আসি। এ সময় ওই বিমানের কয়েকজন যাত্রী বিমানে গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানান। তবে সবাই এক বাক্যে বলেছেন পাইলটের দক্ষতায় তারা বেঁচে ফিরেছেন।’

এদিকে রোববার রাত পৌনে ৮টায় শাহ আমানত বিমানবন্দরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিমানবাহিনীর এয়ারভাইস মার্শাল মুফিত বলেন, ‘সামরিক বাহিনীর যৌথ কমান্ডো অভিযানে চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবস্থানরত বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। যাত্রী ও ক্রু সবাই সুস্থ রয়েছেন। কেউ কোনো আঘাত পাননি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সার্বক্ষণিক নির্দেশনায় এ অভিযান সফলভাবে পরিচালিত হয়।’

তিনি বলেন, বিমান ছিনতাইয়ের চেষ্টাকারী ওই ব্যক্তিকে টেলিফোনে ব্যস্ত রেখে বিশেষ কৌশলে অভিযান পরিচালিত হয়। ওই ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। তিনি সুস্থ নাকি মানসিক রোগী সে সম্পর্কে তদন্ত শেষে বলা সম্ভব হবে বলে জানান মুফিত।

এদিকে সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী গণসংযোগ পরিদফতর (আইএসপিআর)। আইএসপিআরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

একজন প্রত্যক্ষদশী ক্রু জানান, সাড়ে ৪টার কিছু সময় পর ময়ূরপঙ্খী আকাশে প্রায় ১৫ হাজার ফুট উপরের দিকে উড়ে যাচ্ছিল। তখন উড়োজাহাজের ভেতরে যাত্রীদের আসনে থাকা এক ব্যক্তি উঠে ককপিটের দিকে আসেন। এ সময় ওই ব্যক্তি এক ক্রুর কাছে যান। কাছে গিয়ে তিনি ওই ক্রুকে ধাক্কা দেন এবং সঙ্গে সঙ্গে একটি পিস্তল ও বোমাসদৃশ একটি বস্তু বের করে বলেন, ‘আমি বিমানটি ছিনতাই করব। আমার কাছে পিস্তল ও বোমা আছে। ককপিট না খুললে আমি বিমান উড়িয়ে দেব।’ এর মধ্যে অন্য কেবিন ক্রুরা ককপিটে থাকা পাইলট ও সহকারী পাইলটকে গোপনে সাংকেতিক বার্তা দেন যে, উড়োজাহাজে অস্ত্রধারী আছে, উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের চেষ্টা হচ্ছে। ঠিক এ সময় উড়োজাহাজটি চট্টগ্রাম ও ঢাকার মাঝামাঝি জায়গায় অবস্থান করছিল।

ওই ক্রু বলেন, উড়োজাহাজটি আকাশের ১৫ হাজার ফুটের কিছু উপরে উড্ডয়ন করছিল। এর মধ্যে পাইলট মো. শফি ও সহকারী পাইলট মো. জাহাঙ্গীর চট্টগ্রামগামী উড়োজাহাজটির ককপিটের দরজা বন্ধ করে দেন এবং কৌশলে জরুরি অবতরণের জন্য চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দরে বার্তা পাঠান। উড়োজাহাজে থাকা একটি সূত্র জানিয়েছে, ককপিটের দরজা না খোলায় অস্ত্রধারী ব্যক্তিটি চিৎকার করছিলেন। একপর্যায়ে ওই অস্ত্রধারী উড়োজাহাজের ভেতরে ‘বিস্ফোরণের’ মতো ঘটান। ততক্ষণে উড়োজাহাজটি চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তবে ওই অস্ত্রধারী ফ্লাইট স্টুয়ার্ট সাগরকে আটকে রেখেছে। উড়োজাহাজ অবতরণের পর কৌশলে উড়োজাহাজের ডানার পাশের চারটি ইমারজেন্সি গেট দিয়ে যাত্রীরা নেমে পড়েন। উড়োজাহাজে থাকা এক যাত্রী জানিয়েছেন, তিনি নেমে আসা পর্যন্ত ক্রু সাগর ছাড়া ককপিটের ভেতরে তখন পর্যন্ত দু’জন বৈমানিক ছিলেন।

৮ মিনিটের সফল অভিযান, বিমান চলাচল শুরু : বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজ বিজি-১৪৭ চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের পর ক্যাপ্টেন ও বেশির ভাগ যাত্রী নিরাপদে নেমে যেতে পারলেও একাধিক কেবিন ক্রু বিমানটির ভেতরে জিম্মি ছিল। পরে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৮ মিনিটের সফল যৌথ অভিযানে ছিনতাইকারীকে আটক করা হয়। সিভিল অ্যাভিয়েশনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৭টা ১৭ মিনিটে অভিযান পরিচালনা করে। এটি শেষ হয় ৭টা ২৫ মিনিটে। এ সময় ছিনতাইকারীকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়। তখন সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়েছিল, আটক আহত ছিনতাইকারী সুস্থ হলে তদন্ত করে বিস্তারিত জানানো হবে। এর আগে এমন ঘটনায় বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়।

বিমানের ভেতরে গুলি ছুড়েছে অস্ত্রধারী : ঢাকা থেকে দুবাইগামী বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৭ ফ্লাইটটির ভেতরে অস্ত্রধারী গুলি করেছে বলে জানিয়েছেন বিমানযাত্রীরা। এ সময় সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীকে বিমানের ভেতরে রেখে কর্ডন করে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে বিমানে যাত্রীদের মধ্যে কয়েকজনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় বিমানটির ডানা দিয়ে নামতে দেখা যায়। এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শী এক গাড়ির চালক বলেন, আমি দেখছিলাম আমার বস এসেছে কিনা। দেখলাম, ইমার্জেন্সি গেট খোলা। ভাবছিলাম কোনো আগুনের ঘটনা ঘটতে পারে। এরপর দেখলাম, ইমার্জেন্সির ওখান দিয়ে যাত্রীরা লাফিয়ে লাফিয়ে বের হয়ে আসছে।

LEAVE A REPLY