আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক লাভ দেখছে

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক লাভ দেখছে

0
SHARE

সময় সংবাদ রিপোর্ট:একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিরোধী পক্ষের সঙ্গে সংলাপে রাজনৈতিক লাভ দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। যে কারণে শুরু থেকে সংলাপের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে এলেও শেষ সময়ে সবাইকে চমকে দিয়ে সংলাপের সিদ্ধান্ত নেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বসার মাধ্যমে শুরু হওয়া এ সংলাপ ধারাবাহিকভাবে চলবে। অন্যান্য জোট ও দলের সঙ্গেও নির্বাচনের আগে সংলাপে বসবেন শেখ হাসিনা। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বানে সাড়া দিয়ে জোটটির শীর্ষনেতাদের সঙ্গে আগামীকাল সন্ধ্যায় সংলাপে বসতে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। গণভবনে অনুষ্ঠেয় এ সংলাপে গণফোরাম সভাপতি ও ঐকফ্রন্টের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ফ্রন্টের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। এ ছাড়া, আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা বাংলাদেশের সঙ্গে সংলাপে বসবেন প্রধানমন্ত্রী। গতকাল মঙ্গলবার এ বিষয়ে দলটির এক চিঠির জবাবে তাদের গণভবনে আমন্ত্রণ জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সংলাপের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ঐক্যফ্রন্টের ৭ দফা ও ১১ লক্ষ্যকে আমরা সংলাপের আগেই নাকচ করছি না। তাদের দফার দুই-একটি হচ্ছে সংবিধান সংশোধনের বিষয় ও দু-একটি হচ্ছে নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তবে সব কিছুই এখন টেবিলে আলোচনার জন্য উন্মুক্ত। খোলা মনেই আলোচনা হবে। আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা জানান, সরকারপ্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সব সময় যে কোনো যৌক্তিক আলোচনায় বসতে আগ্রহী। দশম সংসদ নির্বাচনের আগেও তিনি সবগুলো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে গণভবনে সংলাপে বসেছিলেন। ওই সময় সংলাপের আমন্ত্রণ জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথাও বলেছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করে সংলাপের ডাকে সাড়া দেননি তিনি। এর পর খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো মারা যাওয়ার পর তাকে দেখতে বিএনপি নেত্রীর বাড়ি পর্যন্ত গিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু বাড়ির দরজা খোলা না হলে অপেক্ষা করে ফিরতে হয় প্রধানমন্ত্রীকে। এ কারণে এর পর থেকে যতবারই বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হতো, তিনি ক্ষুব্ধ হতেন। তাদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন না বলে জানাতেন। কিন্তু ঐক্যফ্রন্টের বিষয়টি ভিন্ন। এ জোটের অনেকগুলো দলের একটি বিএনপি। নবগঠিত সরকারবিরোধী এ জোটের শীর্ষনেতা ড. কামাল হোসেন, যিনি এক সময় আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। এ কারণে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে রাজি হয়েছেন শেখ হাসিনা। রবিবার সন্ধ্যায় ড. কামাল হোসেন সংলাপের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চিঠি দেন প্রধানমন্ত্রীকে। রাতে গণভবনে আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করেন। তিনি তাদের বলেন, কথাবার্তা বলতে তো সমস্যা নেই। তারা সংলাপ করতে চায়, আমার কোনো আপত্তি নেই। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তিনি নেতাদের নির্দেশনা দেন। এর পরই সংবাদ সম্মেলন করে সংলাপের বিষয়ে আওয়ামী লীগের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানান দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। গতকাল মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংলাপের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয় ড. কামালের কাছে। আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, সংলাপে বসার সিদ্ধান্ত নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাদের প্রাথমিক রাজনৈতিক বিজয় হয়েছে। সরকারবিরোধী জোটের সংলাপে বসার আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রথমত তার সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। তিনি তাদের সঙ্গে না বসলে দেশি-বিদেশি অনেকেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলত। বিরোধী জোটের সঙ্গে কথা বলেননি এমন অভিযোগ তোলার সুযোগ পেত। দ্বিতীয়ত, প্রধানমন্ত্রী তার আমন্ত্রণপত্রে জানিয়েছেন, ‘গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখতে সংবিধানসম্মত সকল বিষয়ে আলোচনার জন্য আমার দ্বার সর্বদা উন্মুক্ত।’ আওয়ামী লীগের নেতারা বলছেন, এ আহ্বানের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী দেশের গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয়ের কথা জানিয়েছেন এবং সংবিধানকে সবার ওপরে তুলে ধরেছেন। ফলে সংলাপে বসলেও সংবিধানের বাইরে যাবেন না প্রধানমন্ত্রী। তিনি এটা তার আমন্ত্রণপত্রে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন। আওয়ামী লীগের এক শীর্ষনেতা বলেন, দুর্নীতির মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চূড়ান্ত রায় হয়েছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানও দ-িত। সংবিধানের ৬৬(২)ডি অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তারা দুজনই নির্বাচনের অযোগ্য। এ অবস্থায় বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. কামাল হোসেন। যিনি নিজেও এর আগে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী ছিলেন। তাই তার সঙ্গে সংলাপে বসা আওয়ামী লীগের উদারনৈতিক মনোভাবেরই প্রমাণ দেবে। ওই নেতা আরও বলেন, আমরা চাই ঐক্যফ্রন্টসহ বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক। আমরা আশা করছি, সংলাপের মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আরও একধাপ এগিয়ে যাবে ঐক্যফ্রন্ট। আর যদি এমনটা হয়, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংলাপের পরও জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না তখন সেটা হবে তাদের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচনে আনার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আন্তরিক ছিলেন না এমন কথা আর তারা বলতে পারবেন না। এটা আওয়ামী লীগের জন্য অনেক বড় রাজনৈতিক লাভ বলেও মন্তব্য করেন ওই নেতা। আওয়ামী লীগের শীর্ষনেতারা আরও জানিয়েছেন, কিছুদিনের মধ্যেই আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দলটির নির্বাচনী জোটের সব শরিক দল এবং ১৪-দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে সংলাপে বসবেন। আলাদা আলাদাভাবে সব মিত্র দলের সঙ্গে শিগগিরই আলোচনায় বসবেন বলে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ যৌথসভায় জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তা-ই নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের আগ্রহ সাপেক্ষে তাদের সঙ্গেও সংলাপে বসবেন তিনি। গতকাল রাতে সংলাপে বসার আগ্রহ দেখিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরাবর চিঠি দেয় বিকল্পধারা বাংলাদেশ। এর জবাবে আগামী ২ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় দলটিকে গণভবনে আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। ক্ষমতাসীন দলের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সবার সঙ্গেই কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি চান, সবার মতামতের ভিত্তিতে একটি শান্তিপূর্ণ সংসদ নির্বাচন। সংলাপের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বলেন, সংলাপ অনুষ্ঠিত হওয়া এক জিনিস আর সংলাপ ফলপ্রসূ হওয়া আরেক জিনিস। আমাদের মুখ্য উদ্দেশ্য আগামী নির্বাচনটাকে সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ করে অনুষ্ঠিত করা এবং সে বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়া ও তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করা। ঐক্যফ্রন্টের যদি নির্বাচন করার ইচ্ছা থাকে এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সদিচ্ছা দলটির নেতারা ব্যক্ত করেন, তা হলে নিশ্চয় এ সংলাপের মধ্য দিয়ে একটা পথ তৈরি হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY