৭৮ উপজেলায় ভোট আজ লড়ছেন ৮৪২ প্রার্থী

৭৮ উপজেলায় ভোট আজ লড়ছেন ৮৪২ প্রার্থী

0
SHARE

ডেইলি নিউজ রিপোর্ট॥ পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম ধাপে আজ রবিবার ভোটগ্রহণ হবে চার বিভাগের ১২ জেলার ৭৮ উপজেলায়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন উপলেক্ষে সব প্রস্তুতি শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ৭৮ উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে ২০৭, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৩৮৬ ও সংরক্ষিত ভাইস চেয়ারম্যান পদে ২৪৯ জন মহিলা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এসব উপজেলায় ভোটারসংখ্যা ১ কোটি ৪২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫০। ভোটকেন্দ্র ৫ হাজার ৮৪৭টি। প্রথম ধাপে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন ২৮ প্রার্থী। তারা সবাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছিলেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ১৫, ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৬ ও মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৭ জন নির্বাচিত হন। প্রথম ধাপে ১২ জেলার ৮৭ উপজেলায় ভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। কিন্তু আদালত আদেশে ৩টি এবং কয়েক সাংসদের এলাকায় প্রভাব খাটানোর অভিযোগে ইসির নির্দেশনায় ৩টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়। এ ছাড়া তিন উপজেলায় সবকটি পদে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ৮৭ উপজেলায় সম্ভাব্য প্রার্থীরা নামেন মাঠে। বিএনপি ও যুক্তফ্রন্ট উপজেলা বর্জন করলেও দল ও জোটটির অনেকেই প্রার্থী হন। এরই মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় বেশ কয়েকজনকে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়। তার পরও অনেকে আছেন ভোটের লড়াইয়ে। চেয়ারম্যান পদে এখন পর্যন্ত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগেই বিদ্রোহী প্রার্থী বেশি। এ নিয়ে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনাও ঘটেছে। সর্বশেষ গত শুক্রবার নাটোরের সিংড়ায় আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটছে নির্বাচনবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাও। আদিতমারীতে নির্বাচনবিধি ভঙ্গের অভিযোগ গত শুক্রবার রাতে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের এপিএসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নির্বাচন কমিশন। দ্বিতীয় ধাপে ভোট হবে ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ ও চতুর্থ ধাপে ৩১ মার্চ। ঈদের পর ১৮ জুন পঞ্চম ধাপের ভোট হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৪৯২টি উপজেলা পরিষদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৮০ টিতে এবার ভোট হবে। বিভিন্ন সমস্যার কারণে ১২ উপজেলায় এ বছর ভোট হবে না। সর্বশেষ ২০১৪ সালের মার্চ থেকে মে মাসে ছয় ধাপে এর অধিকাংশগুলোয় ভোট হয়েছিল। আইনে মেয়াদ শেষের পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা থাকায় এই নির্বাচন করতে হচ্ছে। ১৯৮৫ সালে উপজেলা পরিষদ চালু হওয়ার পর ১৯৯০ ও ২০০৯ সালে একদিনেই ভোট হয়েছিল। ২০১৪ সালে ছয় ধাপে ভোট করেছিল তৎকালীন ইসি। যেসব উপজেলায় ভোটগ্রহণ স্থগিত : সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া, কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী, নেত্রকোনার পূর্বধলা, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ, লালমনিরহাটের আদিতমারী, নীলফামারী ও জলঢাকা। যেসব উপজেলায় বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান : জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, মেলান্দহ ও মাদারগঞ্জ; নেত্রকোনা সদর ও কেন্দুয়া; সিরাজগঞ্জ সদর, কাজীপুর ও উল্লাপাড়া; রাজশাহীর মোহনপুর ও বাঘা; জয়পুরহাট সদর ও পাঁচবিবি; নাটোর সদর ও পঞ্চগড়ের বোদা। যেসব উপজেলায় ভোট : পঞ্চগড় সদর, অটোয়ারি, বোদা, দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া; কুড়িগ্রামের সদর, ভূরুঙ্গামারী, উলিপুর, নাগেশ্বরী, রাজারহাট, রাজিবপুর, চিলমারী ও রৌমারী; নীলফামারীর ডোমার, ডিমলা, সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ; লালমনিরহাটের পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, সদর ও কালীগঞ্জ; জামালপুর সদর, সরিষাবাড়ী, মাদারগঞ্জ, মেলান্দহ, ইসলামপুর, বকশীগঞ্জ ও দেওয়ানগঞ্জ; নেত্রকোনা সদর, বারহাট্টা, কেন্দুয়া, দুর্গাপুর, খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দা; সুনামগঞ্জের ছাতক, দোয়ারাবাজার, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ, সদর, দিরাই, শাল্লা, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর; হবিগঞ্জের বাহুবল, মাধবপুর, চুনারুঘাট, লাখাই, সদর, নবীগঞ্জ, আজমিরিগঞ্জ ও বানিয়াচং। সিরাজগঞ্জের সদর, বেলকুচি, চৌহালী, কাজীপুর, রায়গঞ্জ, শাহজাদপুর ও তাড়াশ; জয়পুরহাট সদর, পাঁচবিবি, আক্কেলপুর, কালাই ও ক্ষেতলাল; নাটোরের সদর, বাগাদিপাড়া, গুরুদাসপুর, বড়াইগ্রাম, লালপুর ও সিংড়া; রাজশাহীর তানোর, গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাঘা, পবা, পুঠিয়া, দুর্গাপুর ও চারঘাট। সমাজকল্যাণমন্ত্রীর এপিএসের বিরুদ্ধে মামলা : লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করার অভিযোগে সমাজকল্যাণমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের সহকারী ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (এপিএস) মিজানুর রহমান মিজানের (৩৫) বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে নির্বাচন কমিশন। গত শুক্রবার (৮ মার্চ) মধ্য রাতে আদিতমারী থানায় মামলাটি দায়ের করেন সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও আদিতমারী উপজেলা নির্বাচন অফিসার আবু সাঈম। নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব ফরহাদ আহম্মদ খান বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে কমিশন। রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের কঠোর নির্দেশনা দিয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, ইসির নির্দেশনার ব্যত্যয় ঘটলে তার দায়ভার রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারদের নিতে হবে। ইসি কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে মাঠে নেমেছেন পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসার-ভিডিপি, কোস্টগার্ড, আর্মড পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। ভোটের পরেও দুদিন মাঠে থাকবেন তারা। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে ইসি।

LEAVE A REPLY